47 নীলা-২

স্যাভলন গন্ধে
ডুবে থাকে
ফর্সা কেবিন
ধবধবে চাদরে
নীলার রুগ্ন শ্বাস-প্রশ্বাস,
নীলা ফেলে
ছোট্ট
ছোট্ট
কষ্টের নিঃশ্বাস ।
নিরসভাবে
ঝুলে থাকে স্যালাইন ব্যাগ ।
এক বিন্দু
এক বিন্দু করে
নোনতা জল
বাঁচিয়ে রাখে
আমার প্রতীক্ষা, আনন্দ ।
ইনটেনসিভ কেয়ারে
মনিটরের চলমান রেখাগুলোর
ওঠানামা
আমাকে করে শঙ্কিত, উদ্বিগ্ন ।
নিকটের বারান্দায় গ্রিলের ফাঁক গলিয়ে
পূর্ণিমার স্বর্গীয় আলো ঢুকে পড়ে
আর আমি সেখানে
পায়চারীরত,
প্রার্থনারত ।
প্রচন্ডরকম অস্থিরতায়
ছাইয়ের উপছে ফেলি
কালো এস্ট্রেটা ।

বারান্দা থেকে
সুস্পষ্ট দেখা যায়
নীলাকে;
নীলা যন্ত্রনায়
নীল হয়ে
যখন
ঘুমপাড়ানির ট্যাবলেট গিলে
একটুখানি সুখ নিদ্রায় চেষ্টারত ।
যখন ব্যর্থ হয়ে
প্রচন্ড কষ্টের মাঝে
আমাকে খোঁজে অনুজ্জল চোখের ইশারায়,
তখন নীলার দিকে তাকিয়ে
আমার ভিতরটা
হু হু করে ওঠে ।

আমার ভিতরে সবকিছু অদৃশ্য যন্ত্রনায়
প্রচন্ড ব্যথ্যায় কুঁকিয়ে ওঠে ।
নীলা এ সময়
ভরসার হাসি হাসতে গিয়ে
কুঁকড়ে নীল হয়ে প্রচন্ড যন্ত্রনায় ।
শ্বাসকষ্টের বেহায়পনা বেড়ে যায় সীমাহীন ।

হঠাৎ সেই পুরানো স্মৃতিগুলো
হামলে পড়ে
স্মৃতিরা দলবেঁধে
সব্বাই মিলে
আমাকে নিয়ে উপহাস করে ।

মনে পড়ে যায়
ভার্সিটির
সেই লাজুক ছেলেটার
দুম করে
কাছে চলে আসা
এক দেবী ।

আর সেই
ঈশ্বর প্রদত্ত দেবী
দূরে চলে যাচ্ছে
একটু
একটু করে ।

আমি যতবার
গুল্মলতা, হাত বাড়িয়ে
ধরে রাখতে গিয়ে
নীলা পিছলে
যাচ্ছে বারবার ।

প্রচন্ড ঘোরের ভিতরে
হঠাৎ শুনতে পেলাম
বিলাপ ।
বিশ্রী করে কাঁদছে
কে যেন?

আমি শেষ ট্রেনটা
মিস করেছি;
কিন্তু নীলা ঠিকই
সেই ট্রেনে
হাত
নাড়াতে নাড়াতে
চলে গেল
মিলিয়ে গেল
দূর থেকে বহুদূরে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *