19 গির্জা ফাদার ঈশ্বর

সন্ধ্যায় শ্বেতগির্জায়
ঢং ঢং শব্দের ঢেউয়ে
গির্জার কাছে বসে ঝিমুতে থাকা মানুষগুলো
একটু বেশী উত্তেজিত হয়ে জড়ো হয় ।
বুকের ভিতরে ডুবে থাকা ক্রুশটাকে
এসময় জীবন্ত মনে হয় ।
ফাদার গম্ভীর কন্ঠে স্মরণ করিয়ে দেন
ঈশ্বরপুত্র যীশুকে ।
বাইবেলের গোটা গোটা অক্ষরগুলো একসাথে কথা বলে
সেই সাথে গির্জার আনাচে-কানাচের মোমবাতিরাও ।
বেড়ে ওঠা পাপটাকে ঘষে তুলতে
ঈশ্বরকে সবার প্রয়োজন পড়ে ।
এসময় গির্জার সিঁড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করি,
কথা বলি মদের সঙ্গে ।
কৌতুহলে উঁকি দেই গির্জার খোলা দরজায়,
পাপী বলে পবিত্র জায়গাতে ঢুকতে বিব্রত হই
এ সময় ইচ্ছে করে বাইরে থাকি ।
মাতলামি করে একটু আধটু ভয় দেখাই
সামনের দাঁড়িয়ে থাকা টিউব বাতিকে
আর অদূরে হেলান দেওয়া গাঢ় পারফিউমের বারবণিতাকেও ।
গীর্জার ভিতরটা যখন শুন্য হয়ে আসে
আমি মোমবাতি হাতে
একটু শান্তি খুঁজি, আর সেই ঈশ্বরকে ।
ফাদার বাইবেল হাতে নরকের নারকীয়
যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে সাবধান করিয়ে দেন
আমার মতন নির্বোধ আধা-নাস্তিককে ।
নোংরা অপবিত্র মন দেহটাকে
ঝেড়ে মুছে পবিত্র করতে
ফাদার বারবার ঈশ্বরকে স্মরণ করান ।
ক্যাথিকে সেই কবে হারানোর পর এই প্রথম
ঈশ্বরকে প্রবল প্রয়োজন,
অনুভব করছি এখন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *